সিরাজগঞ্জ: এমনিতেই দিনভর যানজটে নাকাল ছিল যমুনা সেতুর দুই প্রান্ত। কিন্তু রাতে যানজট কমবে তো দূরের কথা আরও বেড়েছে। কারণ, সেতুর ওপর দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত সাত জন। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদ-পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে যমুনা সেতুর ওপর দুই বাসের সংঘর্ষের ঘটনার পাশাপাশি একটি বাস বিকল হয়ে পড়ে। এর আগে বিকেলে সেতুর বিভিন্ন স্থানে চারটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে রাতে দুর্ঘটনার পরপরই সেতুর ওই অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত সিরাজগঞ্জ অংশে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সেতুর গোলচত্বর এলাকা থেকে ঝাওল ওভারব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রী ও পরিবহনের চাপ এমনিতেই বেশি ছিল। এর মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। অনেক যাত্রী যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
সেতুসংশ্লিষ্টরা জানায়, বিকল যানবাহনের কারণে সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনে চাপ বেশি থাকলেও উত্তরবঙ্গমুখী লেনেও যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যমুনা সেতুর দুই পাড়ে এখনো যানবাহনের চাপ রয়েছে। সেতুর ওপর কোনো যানবাহন বিকল হলেই এর প্রভাব দুই প্রান্তে পড়ে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমাদের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং সাত জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে সেতুর ওপর স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় চালু হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Tags: গাড়ির সারি, যমুনা সেতু, যানজট