১৩০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ইলিয়ট ব্রিজ, যার নিচে নেই কোনো পিলার
সিরাজগঞ্জ ইনফো
আপডেট সময়
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
১৩০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ইলিয়ট ব্রিজ, যার নিচে নেই কোনো পিলার
সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া কাটাখালী নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন, ইলিয়ট ব্রিজ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বড়পুল’ নামেই বেশি পরিচিত। ১৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই সেতুর সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, এর নিচে নদীর মাঝে একটিও স্তম্ভ নেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে কাটাখালী নদী সিরাজগঞ্জ শহরকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করেছিল। সে সময় যমুনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কাটাখালীর স্রোত ছিল প্রবল। ফলে নদী পারাপার ছিল দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে ১৮৯২ সালে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক বিটসন বেলের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ডের নকশায় নির্মিত সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর একই বছরের ৬ আগস্ট স্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার চার্লস আলফ্রেড ইলিয়ট। তাঁর নামানুসারেই সেতুটির নাম রাখা হয় ‘ইলিয়ট ব্রিজ’। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থায়নের একটি অংশ দেয় জেলা বোর্ড। বাকি অর্থ আসে স্থানীয় জমিদার ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের অনুদান থেকে। ইলিয়ট ব্রিজের স্থাপত্যই এটিকে অন্য সব সেতু থেকে আলাদা করেছে। প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ, ১৬ ফুট প্রশস্ত এবং ৩০ ফুট উঁচু এই স্টিলের খিলান সেতুর নিচে নদীর মাঝখানে কোনো স্তম্ভ নেই। সে সময়ের প্রকৌশলীরা এমন নকশা করেছিলেন, যাতে বড় নৌযান ও মালবাহী জাহাজ নির্বিঘ্নে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে। শুরুতে সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন থাকলেও পরে তা কংক্রিট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ পথচলায় ইলিয়ট ব্রিজ একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে কাটাখালী নদী পুনঃখননের পর নদীতে আবার পানিপ্রবাহ ফিরে আসে, ফলে সেতুটিও ফিরে পায় তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য। বর্তমানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্রিজের ধার ও উপর স্থানীয়দের ঘোরাঘুরি ও সময় কাটানোর একটি দারুণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাইরের পর্যটকদের কাছে এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থাপনা। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইলিয়ট ব্রিজ শুধু দুই তীরকে নয়, সিরাজগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৌশল দক্ষতার গৌরবকেও যুক্ত করে রেখেছে। আজও এটি বাংলাদেশের ঔপনিবেশিক...
34
সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া কাটাখালী নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন, ইলিয়ট ব্রিজ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বড়পুল’ নামেই বেশি পরিচিত। ১৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই সেতুর সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, এর নিচে নদীর মাঝে একটিও স্তম্ভ নেই।
উনিশ শতকের শেষ দিকে কাটাখালী নদী সিরাজগঞ্জ শহরকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করেছিল। সে সময় যমুনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কাটাখালীর স্রোত ছিল প্রবল। ফলে নদী পারাপার ছিল দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ।
এ সমস্যা সমাধানে ১৮৯২ সালে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক বিটসন বেলের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ডের নকশায় নির্মিত সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর একই বছরের ৬ আগস্ট স্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার চার্লস আলফ্রেড ইলিয়ট। তাঁর নামানুসারেই সেতুটির নাম রাখা হয় ‘ইলিয়ট ব্রিজ’।
প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থায়নের একটি অংশ দেয় জেলা বোর্ড। বাকি অর্থ আসে স্থানীয় জমিদার ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের অনুদান থেকে।
ইলিয়ট ব্রিজের স্থাপত্যই এটিকে অন্য সব সেতু থেকে আলাদা করেছে। প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ, ১৬ ফুট প্রশস্ত এবং ৩০ ফুট উঁচু এই স্টিলের খিলান সেতুর নিচে নদীর মাঝখানে কোনো স্তম্ভ নেই। সে সময়ের প্রকৌশলীরা এমন নকশা করেছিলেন, যাতে বড় নৌযান ও মালবাহী জাহাজ নির্বিঘ্নে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে। শুরুতে সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন থাকলেও পরে তা কংক্রিট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়।
দীর্ঘ পথচলায় ইলিয়ট ব্রিজ একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে কাটাখালী নদী পুনঃখননের পর নদীতে আবার পানিপ্রবাহ ফিরে আসে, ফলে সেতুটিও ফিরে পায় তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য। বর্তমানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্রিজের ধার ও উপর স্থানীয়দের ঘোরাঘুরি ও সময় কাটানোর একটি দারুণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাইরের পর্যটকদের কাছে এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থাপনা।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইলিয়ট ব্রিজ শুধু দুই তীরকে নয়, সিরাজগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৌশল দক্ষতার গৌরবকেও যুক্ত করে রেখেছে। আজও এটি বাংলাদেশের ঔপনিবেশিক যুগের প্রকৌশল ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
১৩০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ইলিয়ট ব্রিজ, যার নিচে নেই কোনো পিলার
সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া কাটাখালী নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন, ইলিয়ট ব্রিজ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বড়পুল’ নামেই বেশি পরিচিত। ১৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই সেতুর সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, এর নিচে নদীর মাঝে একটিও স্তম্ভ নেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে কাটাখালী নদী সিরাজগঞ্জ শহরকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করেছিল। সে সময় যমুনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কাটাখালীর স্রোত ছিল প্রবল। ফলে নদী পারাপার ছিল দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে ১৮৯২ সালে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক বিটসন বেলের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ডের নকশায় নির্মিত সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর একই বছরের ৬ আগস্ট স্থাপন করেন তৎকালীন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার চার্লস আলফ্রেড ইলিয়ট। তাঁর নামানুসারেই সেতুটির নাম রাখা হয় ‘ইলিয়ট ব্রিজ’। প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থায়নের একটি অংশ দেয় জেলা বোর্ড। বাকি অর্থ আসে স্থানীয় জমিদার ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের অনুদান থেকে। ইলিয়ট ব্রিজের স্থাপত্যই এটিকে অন্য সব সেতু থেকে আলাদা করেছে। প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ, ১৬ ফুট প্রশস্ত এবং ৩০ ফুট উঁচু এই স্টিলের খিলান সেতুর নিচে নদীর মাঝখানে কোনো স্তম্ভ নেই। সে সময়ের প্রকৌশলীরা এমন নকশা করেছিলেন, যাতে বড় নৌযান ও মালবাহী জাহাজ নির্বিঘ্নে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে। শুরুতে সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন থাকলেও পরে তা কংক্রিট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ পথচলায় ইলিয়ট ব্রিজ একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। ২০১৯ সালে কাটাখালী নদী পুনঃখননের পর নদীতে আবার পানিপ্রবাহ ফিরে আসে, ফলে সেতুটিও ফিরে পায় তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য। বর্তমানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্রিজের ধার ও উপর স্থানীয়দের ঘোরাঘুরি ও সময় কাটানোর একটি দারুণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাইরের পর্যটকদের কাছে এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থাপনা। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইলিয়ট ব্রিজ শুধু দুই তীরকে নয়, সিরাজগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৌশল দক্ষতার গৌরবকেও যুক্ত করে রেখেছে। আজও এটি বাংলাদেশের ঔপনিবেশিক...