1. zrtalukder@gmail.com : Zillur Talukder : Zillur Talukder
  2. ranaasad1979@gmail.com : Assaduzzaman Rana : Assaduzzaman Rana
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. protikmahmud@yahoo.com : সিরাজগঞ্জ ইনফো : সিরাজগঞ্জ ইনফো
  5. test@xyz.com : Tech Use : Tech Use
নতুন সংবাদ
হারানো ৫৩ মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিল পুলিশ সিরাজগঞ্জে ২৮ আগস্ট ‘উদ্যোক্তা মিলনমেলা’ আদমজীর জমি যা পেরেছে, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলেও হবে সিরাজগঞ্জে দুই সরকারি স্কুলের অভিভাবকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সিরাজগঞ্জে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিল সিরাজগঞ্জে শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী পেলেন অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পদ্মে ছেয়ে গেছে সোনাকান্ত বিল, বাড়ছে পর্যটকের ভিড় রায়গ‌ঞ্জে এমপি ভিপি আইনুলের গাড়িতে হামলা শাহজাদপুরে ছাত্র নিখোঁজের ৩ বছর পর রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার আবারও কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কওমী জুট মিল?

আদমজীর জমি যা পেরেছে, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলেও হবে

জিল্লুর তালুকদার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২৯২ একর জমির ওপর এখন যে কারখানাগুলো চলছে, সেখানে কাজ করেন ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ। বেপজার হিসাব বলছে, আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড থেকে এ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ডলারের পণ্য, বিনিয়োগ এসেছে ৮৪৭ মিলিয়ন ডলার। ৪৭টি ইউনিটে তৈরি হচ্ছে পোশাক, ব্রাইডাল ড্রেস, সেফটি ফুটওয়্যার, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই এখান থেকে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

এই জমিরই আগের পরিচয় ছিল আলাদা। ১৯৫০ সালে গড়ে ওঠা আদমজী জুট মিল একসময় প্রায় এক হাজার একর জুড়ে বিস্তৃত ছিল, বিশ্বের বড় পাটকলগুলোর একটি হিসেবে এর নাম ছিল। স্বাধীনতার পর মিলটি জাতীয়করণ হয়ে বিজেএমসির অধীনে যায়। তারপর লোকসান, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, পুরোনো যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক অসন্তোষ, সব মিলিয়ে মিলটি আর দাঁড়াতে পারেনি। ২০০২ সালের ৩০ জুন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠিয়ে সরকার মিলটি বন্ধ করে দেয়।

বন্ধ কারখানা থেকে ইপিজেড হতে লেগেছিল চার বছর

মিল বন্ধ হওয়ার পর জমিটি খালি পড়ে ছিল দুই বছরের বেশি। ২০০৪ সালে জমি বেপজার হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, আর ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ আদমজী ইপিজেডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বেপজা একই সময়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী স্টিল মিলের জমিতেও একই কাজ করেছিল। বন্ধ রাষ্ট্রীয় কারখানার জমি রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দেওয়ার এই দুটি নজির এখনো আলোচনায় আসে।

সিরাজগঞ্জের মিলটির ইতিহাস

সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। শুরুতে এর নাম ছিল কওমী জুট মিলস লিমিটেড। পাট নগরী হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জে মিলটি শুধু একটা কারখানা ছিল না, জেলার অর্থনীতি ও হাজারো শ্রমজীবী পরিবারের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।

আদমজীর মতোই এই মিলও জাতীয়করণের পর বিজেএমসির অধীনে যায়, আর একই কারণে ধুঁকতে থাকে। ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির অন্য মিলগুলোর সঙ্গে এটিও বন্ধ হয়ে যায়, স্থায়ী শ্রমিকদের পাঠানো হয় স্বেচ্ছা অবসরে।

নতুন চুক্তিতে কী আছে

গত ১১ আগস্ট সচিবালয়ে বিজেএমসির সঙ্গে চুক্তি সই করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ও খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল, আর খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস ৩০ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপের আবদুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানি।

সিরাজগঞ্জের মিলটির মোট ৭৫ একরের মধ্যে ইজারায় গেছে ৩৭ দশমিক ৯৭ একর, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। বাকি জমির বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। ইজারা নেওয়া অংশে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, ডেনিম, জ্যাকেট, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, হস্তশিল্প, ব্যাগ, জুতা ও খেলনার কারখানা করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে থাকবে কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও পণ্য সংরক্ষণের গুদাম।

দুই রকম সংখ্যা, দুই রকম প্রত্যাশা

এখানে একটা বিষয় খেয়াল করার মতো। চুক্তি অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জের মিলটিতে বিনিয়োগ হবে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা, কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার ২৩৮ জনের, বার্ষিক টার্নওভার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকায়। একই দিনে প্রাণ-আরএফএলের পরিকল্পনা হিসেবে সংবাদমাধ্যমে এসেছে ভিন্ন হিসাব, বিনিয়োগ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, কর্মসংস্থান সাড়ে ৬ হাজার, টার্নওভার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

তিনটি মিল ধরলে ব্যবধানটা আরও স্পষ্ট। সরকারের দেওয়া মিলভিত্তিক হিসাব যোগ করলে বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৬১৯ কোটি টাকা, কর্মসংস্থান প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। অথচ বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কথা, আবার কোনো কোনো প্রতিবেদনে বিনিয়োগ ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা ও কর্মসংস্থান ১৫ হাজার বলা হয়েছে।

সংখ্যার এই ফারাকের একটা সহজ ব্যাখ্যা আছে। প্রথম হিসাবটি চুক্তির শুরুর ধাপের, দ্বিতীয়টি কয়েক বছরে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যা হতে পারে তার। কোনটি কবে হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি মাপার সবচেয়ে ভালো সময় হবে উৎপাদন শুরুর দুই বছর পর।

পাটকলের জমিতে পাট থাকবে কি

ইজারার খবর আসার পর সিরাজগঞ্জে যে প্রশ্নটি উঠেছে, সেটি পণ্য নিয়ে। জেলার মানুষের কাছে মিলটি ছিল পাটের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান। ইজারা নেওয়া জমিতে যে পণ্যতালিকার কথা বলা হয়েছে, তাতে পাটজাত পণ্য নেই। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ বলেছেন, জায়গাটিতে যেহেতু পাটকল ছিল, সেখানে পাটজাত পণ্য তৈরি হলেই ভালো হতো, তাতে শ্রমিকদেরও সুবিধা হতো। কী পণ্য হবে সেটি অবশ্য ইজারাগ্রহীতার সিদ্ধান্ত।

স্থানীয়দের প্রশ্নটি তাই দুই ভাগে। কারখানা চালু হয়ে কাজ ফিরে এলে সেটি লাভ, কিন্তু পাটকলের জমিতে পাট না থাকলে প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো পরিচয় থাকবে কীভাবে।

আদমজীর সঙ্গে তুলনা কতদূর চলে

আদমজীর অভিজ্ঞতা আশা জাগায়, তবে দুটি ঘটনার গড়ন এক নয়।

প্রথম পার্থক্য আয়তনে। আদমজী ইপিজেড ২৯২ একর, সিরাজগঞ্জে ইজারায় গেছে ৩৮ একরের কম। এক-অষ্টমাংশ জমিতে ৭৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আশা করা যায় না।

দ্বিতীয় পার্থক্য কাঠামোয়। আদমজীর জমি গেছে বেপজার হাতে, যেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা, ওয়ান উইন্ডো সেবা ও বিদেশি বিনিয়োগ টানার আলাদা ব্যবস্থা আছে। বেপজার আট ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে গত অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এসেছে। সিরাজগঞ্জের জমি গেছে একটি দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর ইজারায়, সাধারণ কারখানা হিসেবে। প্রাণ-আরএফএল বলেছে, তারা দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির জন্যও পণ্য বানাবে। তবু বিদেশি বিনিয়োগ টানার সুযোগ এখানে আদমজীর মতো নয়।

তৃতীয় পার্থক্য সময়ে। আদমজী বন্ধ হয়েছিল ২০০২ সালে, ইপিজেড চালু হয় ২০০৬ সালে, আর ৭৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানে পৌঁছাতে লেগেছে প্রায় দুই দশক। সিরাজগঞ্জের হিসাবেও তাই তাড়াহুড়া না করাই ভালো।

যা ভরসা দেয়

প্রাণ-আরএফএলের হাতে এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা আছে। বন্ধ থাকা রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ও রাজশাহী জুট মিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে তারাই চালু করেছে, দুটি কারখানায় এখন কাজ করছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সিরাজগঞ্জে সেই মাপের কিছু হলেও জেলার শ্রমবাজারে তা টের পাওয়া যাবে।

বড় ছবিটাও নড়ছে। বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৪টির ইজারা শেষ করে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। বন্ধ রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলো নিয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে, যার ৩৫টিই প্রাণ-আরএফএলের।

এখন যা দেখার

সিরাজগঞ্জের জমিতে আদমজীর আদলে একটা ইপিজেড হলে সবচেয়ে ভালো হতো, এই আক্ষেপ থেকেই যায়। উত্তরাঞ্চলে ঈশ্বরদী ইপিজেড ছাড়া বড় রপ্তানি অঞ্চল নেই, যমুনা সেতু ও রেলপথের কাছে থাকা এই জমি সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারত।

তবু বছরের পর বছর তালাবদ্ধ থাকার চেয়ে কারখানার চাকা ঘোরা ভালো। এখন কয়েকটা জিনিস মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে কাজটা কোন দিকে যাচ্ছে। উৎপাদন কবে শুরু হয়, প্রথম বছরে কতজনের কাজ হয়, স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া পুরোনো শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার সেখানে জায়গা পায় কি না, বাকি ৩৭ একর জমির কী হয়, আর ঘোষিত ১৫৭ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটিতে পৌঁছাতে কত সময় লাগে।

সিরাজগঞ্জ পাটের জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই পরিচয় ফিরবে না, কিন্তু কাজ ফিরলে সেটাও কম কিছু নয়।

01

02

Tags:

এই ধরনের আরও নিউজ

1

2

পরবর্তী নিউজ লোড হচ্ছে...

আরও সংবাদ

© কপিরাইট ২০২৬-২০২৭ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত