“উদয় দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে,
মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।”
এই আহ্বানকে সামনে রেখেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসন, সিরাজগঞ্জের আয়োজনে শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আজ থেকে এ আয়োজনের সূচনা হয়।
প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মঞ্জুর।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও রবীন্দ্রচিন্তার আবেদন আজও অমলিন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
অনুষ্ঠানস্থলে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনেও সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কাম্য। রবীন্দ্র কাব্যসুধা ও চেতনার আলোয় প্রাত্যহিক জীবন উদ্ভাসিত হোক—এই প্রত্যাশাই উচ্চারিত হয়েছে আয়োজনে।
Tags: রবীন্দ্রনাথ কাচারি বাড়ি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর