সিরাজগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনভর বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা-অর্চনা শেষে রবিবার দুপুরে থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত বিসর্জন ঘাটে গিয়ে শেষ হয়।
ঢাক, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি আর ধর্মীয় সংগীতের তালে তালে রঙিন শোভাযাত্রায় অংশ নেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা। হাতে ফুল, রঙিন ব্যানার ও প্রতিমা বহন করে তারা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বিদায়ের শুভক্ষণ উদযাপন করেন। শোভাযাত্রা চলাকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, সকালে বিশেষ প্রার্থনা ও অঞ্জলি শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দুপুরে দিকে প্রতিমাগুলো সুসজ্জিত ট্রাক, ভ্যান ও হাতে বহন করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে যমুনা নদী ও অন্যান্য নির্ধারিত জলাশয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের সরস্বতী পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, এবার সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও মহল্লাভিত্তিক মণ্ডপে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা ও বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিসর্জন ঘাটগুলোতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ কামনায় তারা পূজায় অংশ নিয়েছেন এবং আগামী দিনে শিক্ষা ও জীবনে সফলতার প্রত্যাশা করেছেন। আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানালেও তাদের হৃদয়ে পূজার আনন্দ ও ধর্মীয় আবেশ দীর্ঘদিন ধরে থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
সিরাজগঞ্জে এভাবেই উৎসবের আবহে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন সরস্বতী পূজার বিসর্জন পর্ব।
Tags: সরস্বতী পূজা
পরবর্তী নিউজ লোড হচ্ছে...