রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে কিংসের গোলমেশিন সিরাজগঞ্জের সাব্বিরের স্বপ্নযাত্রা
নাজমুল ইসলাম
আপডেট সময়
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে কিংসের গোলমেশিন সিরাজগঞ্জের সাব্বিরের স্বপ্নযাত্রা
সব জায়গায় সুযোগ পাননি, কিন্তু হাল ছাড়েননি মো. সাব্বির। কখনো রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থেকেছেন, কখনো খেলেছেন রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব নিয়ে। উচ্চতার কারণে কোচের পরামর্শে রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেলতে শুরু করলেও তাঁর চোখ ছিল প্রতিপক্ষের জালে। সেই সাব্বিরই এখন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে গোলের পর গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলার। তাঁর স্বপ্ন, দেশের সেরা নাম্বার নাইন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। সাব্বিরের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ বারবার আসেনি। শাহজাদপুরের এই তরুণের প্রতিভা প্রথম নজরে আসে তৎকালীন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানার। তাঁর হাত ধরেই অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা ফুটবল দলে সুযোগ পান সাব্বির। বর্তমানে মাসুদ রানা রংপুর জেলায় কর্মরত। এরপর রাজশাহী বিভাগের হয়ে ঢাকায় খেলার সুযোগ আসে তাঁর। কিন্তু কমলাপুরের টার্ফে নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আর সুযোগ মেলেনি। যে বয়সে একজন তরুণ ফুটবলার বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সে সময়ই সাব্বিরকে ফিরে যেতে হয় অপেক্ষার বেঞ্চে। তবে ফুটবল ছাড়েননি তিনি। অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, নিজের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছেন। ২০১৯ সালে বসুন্ধরা কিংসের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পান সাব্বির। প্রথম মৌসুমেই চার গোল করে নজর কাড়েন। তাঁর পারফরম্যান্সে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মূলত রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেললেও প্রয়োজন অনুযায়ী লেফট ব্যাক ও রাইট ব্যাকের দায়িত্বও সামলেছেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে অবদান রাখার সামর্থ্য তখন থেকেই দেখাতে শুরু করেন তিনি। এরপর স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) খেলার সুযোগ পান সাব্বির। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের নামের পাশে যোগ করেন পাঁচ গোল। ২০২১-২২ মৌসুম থেকেই এই ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর। শুরু হয় পেশাদার ফুটবলে পথচলা। টানা মৌসুমে বেশিরভাগ ম্যাচ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। নিজের অবস্থান করে নেন দেশী বিদেশী খেলোয়ড়দের মাঝে। ২২-২৩ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংস...
35
সব জায়গায় সুযোগ পাননি, কিন্তু হাল ছাড়েননি মো. সাব্বির। কখনো রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থেকেছেন, কখনো খেলেছেন রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব নিয়ে। উচ্চতার কারণে কোচের পরামর্শে রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেলতে শুরু করলেও তাঁর চোখ ছিল প্রতিপক্ষের জালে। সেই সাব্বিরই এখন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে গোলের পর গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন।
২০২৬-২৭ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলার। তাঁর স্বপ্ন, দেশের সেরা নাম্বার নাইন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
সাব্বিরের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ বারবার আসেনি। শাহজাদপুরের এই তরুণের প্রতিভা প্রথম নজরে আসে তৎকালীন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানার। তাঁর হাত ধরেই অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা ফুটবল দলে সুযোগ পান সাব্বির। বর্তমানে মাসুদ রানা রংপুর জেলায় কর্মরত।
এরপর রাজশাহী বিভাগের হয়ে ঢাকায় খেলার সুযোগ আসে তাঁর। কিন্তু কমলাপুরের টার্ফে নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আর সুযোগ মেলেনি। যে বয়সে একজন তরুণ ফুটবলার বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সে সময়ই সাব্বিরকে ফিরে যেতে হয় অপেক্ষার বেঞ্চে। তবে ফুটবল ছাড়েননি তিনি। অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, নিজের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছেন।
২০১৯ সালে বসুন্ধরা কিংসের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পান সাব্বির। প্রথম মৌসুমেই চার গোল করে নজর কাড়েন। তাঁর পারফরম্যান্সে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মূলত রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেললেও প্রয়োজন অনুযায়ী লেফট ব্যাক ও রাইট ব্যাকের দায়িত্বও সামলেছেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে অবদান রাখার সামর্থ্য তখন থেকেই দেখাতে শুরু করেন তিনি।
এরপর স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) খেলার সুযোগ পান সাব্বির। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের নামের পাশে যোগ করেন পাঁচ গোল। ২০২১-২২ মৌসুম থেকেই এই ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর। শুরু হয় পেশাদার ফুটবলে পথচলা। টানা মৌসুমে বেশিরভাগ ম্যাচ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। নিজের অবস্থান করে নেন দেশী বিদেশী খেলোয়ড়দের মাঝে।
২২-২৩ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংস তখন দেশের অন্যতম সেরা দল। সেই মৌসুম থেকে আবারও কিংসে যোগ দিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন সাব্বির। দেশি-বিদেশি তারকা ফুটবলারদের ভিড়ে নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। নিজের জায়গা নিতে অনুশীলনে প্রতিনিয়ত ঘাম ঝরিয়েছে। সাব্বিরকে কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ইচ্ছাশক্তি। কোচের নির্দেশে রক্ষণ সামলালেও গোল করার ক্ষুধা কখনো হারাননি। মাঠে কখনো প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়েছেন, আবার কখনো সামনে উঠে গোল করে জানিয়েছেন নিজের সামর্থ্যের কথা। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও পরিষ্কার- নিজেকে একজন কার্যকর স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে সাব্বির যেন নিজের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার জবাব দিতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি হ্যাটট্রিক। একসময় যে তরুণকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে, সেই তরুণই এখন গোল করে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান।
শাহজাদপুর থেকে ঢাকার মাঠ, বয়সভিত্তিক দল থেকে পেশাদার ফুটবল- সাব্বিরের গল্প মূলত হার না মানার গল্প। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা দিনগুলো তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং সেই অপেক্ষাই তাঁকে আরও ক্ষুধার্ত করেছে। এখন তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বসুন্ধরা কিংসের আস্থার প্রতিদান দেওয়া। এই তরুণের আসল পরীক্ষা এখন ধারাবাহিকতা, বড় ম্যাচে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ এবং জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। স্বপ্ন পূরণের পথে সেই লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি।
রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে কিংসের গোলমেশিন সিরাজগঞ্জের সাব্বিরের স্বপ্নযাত্রা
সব জায়গায় সুযোগ পাননি, কিন্তু হাল ছাড়েননি মো. সাব্বির। কখনো রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থেকেছেন, কখনো খেলেছেন রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব নিয়ে। উচ্চতার কারণে কোচের পরামর্শে রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেলতে শুরু করলেও তাঁর চোখ ছিল প্রতিপক্ষের জালে। সেই সাব্বিরই এখন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে গোলের পর গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলার। তাঁর স্বপ্ন, দেশের সেরা নাম্বার নাইন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। সাব্বিরের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ বারবার আসেনি। শাহজাদপুরের এই তরুণের প্রতিভা প্রথম নজরে আসে তৎকালীন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানার। তাঁর হাত ধরেই অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা ফুটবল দলে সুযোগ পান সাব্বির। বর্তমানে মাসুদ রানা রংপুর জেলায় কর্মরত। এরপর রাজশাহী বিভাগের হয়ে ঢাকায় খেলার সুযোগ আসে তাঁর। কিন্তু কমলাপুরের টার্ফে নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আর সুযোগ মেলেনি। যে বয়সে একজন তরুণ ফুটবলার বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, সে সময়ই সাব্বিরকে ফিরে যেতে হয় অপেক্ষার বেঞ্চে। তবে ফুটবল ছাড়েননি তিনি। অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, নিজের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছেন। ২০১৯ সালে বসুন্ধরা কিংসের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পান সাব্বির। প্রথম মৌসুমেই চার গোল করে নজর কাড়েন। তাঁর পারফরম্যান্সে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মূলত রক্ষণাত্মক মাঝমাঠে খেললেও প্রয়োজন অনুযায়ী লেফট ব্যাক ও রাইট ব্যাকের দায়িত্বও সামলেছেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে অবদান রাখার সামর্থ্য তখন থেকেই দেখাতে শুরু করেন তিনি। এরপর স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) খেলার সুযোগ পান সাব্বির। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের নামের পাশে যোগ করেন পাঁচ গোল। ২০২১-২২ মৌসুম থেকেই এই ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর। শুরু হয় পেশাদার ফুটবলে পথচলা। টানা মৌসুমে বেশিরভাগ ম্যাচ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। নিজের অবস্থান করে নেন দেশী বিদেশী খেলোয়ড়দের মাঝে। ২২-২৩ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংস...