সিরাজগঞ্জ: জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেছেন, মাদক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি মাদকের ভয়াল ছোবলে আক্রান্ত হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত মাদকবিরোধী সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান। ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী সেমিনার, কুইজ প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, বিতর্ক, প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে এবং শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক পথ দেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম এবং রাশিদাজ্জোহা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা সালমা হোসেন। এ ছাড়াও বক্তৃতা করেন- এডুকেটিভ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমরান, হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহেল অফিসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শুধু একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী প্রচার চালানো হবে।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে একজন ব্যক্তি শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ে। মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক অশান্তি, অপরাধ প্রবণতা, অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে নারীরা অনেক সময় মাদকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।
পরে সেমিনারে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, প্রদর্শনী ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।