1. zrtalukder@gmail.com : Zillur Talukder : Zillur Talukder
  2. ranaasad1979@gmail.com : Assaduzzaman Rana : Assaduzzaman Rana
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. protikmahmud@yahoo.com : সিরাজগঞ্জ ইনফো : সিরাজগঞ্জ ইনফো
  5. test@xyz.com : Tech Use : Tech Use
নতুন সংবাদ
সিরাজগঞ্জে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা সিরাজগঞ্জে উৎসবমুখর দুর্গাপূজা: মণ্ডপে পুলিশের নজরদারি, মহাসড়কে টহল ‘সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য-ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে হবে’ মাহমুদপুরের বিদ্যাকোষ পাঠাগারের সভাপতি মতিন সজীব, সম্পাদক নূর মোক্তার দুর্গাপূজায় বর্ণিল আলোয় সেজেছে সিরাজগঞ্জ দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর: বিদ্যুৎমন্ত্রী কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ট্যাবুমুক্ত করার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী নদীভাঙন রোধে বেশি বেশি বিন্না ঘাস রোপণের আহ্বান ডিসি’র ‘শহিদ জেহাদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতন হয়েছিল’

শসা চাষে সফল কৃষকদের দাম নিয়ে হতাশা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ। ছবি: সংগৃহীত
219

সিরাজগঞ্জে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ। কম সময়ে ফলন পাওয়া, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং শসার গুণগত মান ভালো হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। জেলার নয়টি উপজেলাতেই কম-বেশি শসার আবাদ হচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে জমিতে ফলন ভালো হলেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সিরাজগঞ্জে ১৩০ হেক্টর জমিতে শসা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন। এর পাশাপাশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৬০ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী হিসেবে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, মালচিং পদ্ধতিতে প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত শসা উৎপাদন হচ্ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত শসা চাষের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে। ফলে অল্প সময়ে জমি থেকে আয় পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক এ সবজির চাষ করছেন। বিশেষ করে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় জমিতে আগাছার বিস্তার কমে, মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যায় এবং গাছের পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ হয়। শসা মাটির সরাসরি সংস্পর্শে না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এর গুণগত মানও ভালো থাকে।

সদর উপজেলার কৃষক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করে এবার জমিতে ভালো ফলন পেয়েছি। গাছ দ্রুত বেড়েছে এবং একসঙ্গে অনেক শসা ধরেছে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় সেই অনুপাতে লাভ হচ্ছে না।’ তার ভাষ্য, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, সেচ ও মালচিংয়ের খরচ মিলিয়ে একবিঘা জমিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে শষা চাষ থেকে ভালো আয় সম্ভব।

উল্লাপাড়ার কৃষক মোতালেবও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে ফলন ভালো হয়েছে এবং পরিচর্যার কিছু খরচও কমেছে। কিন্তু শসা ওঠার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। বর্তমানে প্রতিমণ শসা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের হাতে প্রত্যাশিত লাভ থাকছে না।’ বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ পদ্ধতিতে আরও বেশি কৃষক শসা চাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তিনি।

কৃষকদের অভিযোগ, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়লেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা সবসময় পাওয়া যায় না। বিশেষ করে রোগবালাই, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বিপণন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রদর্শনীর মাধ্যমে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই মালচিং ব্যবস্থাপনায় একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকায় কৃষকের জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করারও চেষ্টা চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ পদ্ধতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শসা স্বল্পমেয়াদি একটি সবজি। যদিও এর চাহিদা সারা বছর থাকে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভালো ফলনও কৃষকের জন্য কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে না।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ, পরিবহণ ব্যয় ও শ্রমের মূল্য ক্রমেই বাড়ছে। বিপরীতে মাঠপর্যায়ে শসার দাম কমে গেলে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই উৎপাদন পরিকল্পনা ও বিপণনে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

01

02

Tags: , ,

219
এই ধরনের আরও নিউজ

1

2

পরবর্তী নিউজ লোড হচ্ছে...

আরও সংবাদ

© কপিরাইট ২০২৬-২০২৭ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত