সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ এলাকায় মাদক সেবন ও বেচাকেনার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতনতা ও প্রচার উদ্যোগে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবকে রাম দা ও চাকু দিয়ে হামলা করা হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় দেওয়া এজাহারে অভিযোগ করেছেন তার ভাই মো. আব্দুস সোবাহান চৌধুরী।
সিরাজগঞ্জ থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জ এলাকায় চলমান মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি আব্দুস সোবাহানের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার বড় ভাই মোহাম্মদ আনিস চৌধুরীকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির সামনে ২ নম্বর গলির তিন রাস্তার মোড়ে আনিস চৌধুরীর ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, রাম দা ও বারমিচ চাকু ছিল। তারা আনিসকে ঘিরে গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে একজন রাম দা দিয়ে আনিসকে কোপ দিলে তার মাথায় গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকজনের হাতে থাকা চাকুর কোপ ঠেকাতে গিয়ে তার বাম হাতের আঙুলে জখম হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, এলাকায় মাদক সেবন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরেই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
রহমতগঞ্জ এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান মাহফুজুর রহমান তালুকদার বলেন, এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাতে এলাকায় টহল দেওয়া, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগসহ স্থানীয়দের নিয়ে নিয়মিতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এলাকার আরেক মুরুব্বি শামসুল আলম তালুকদার মাদকবিরোধী প্রচারণায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় যুবক ও মাদকবিরোধী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত মামুনুর রশিদ নুহু বলেন, ‘এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। মাদক সেবন ও এর সঙ্গে জড়িত কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয়দের আরও সংগঠিত হয়ে কাজ করা দরকার।’
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর তালুকদার বলেন, ‘রহমতগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবনকারীদের উৎপাত বেড়ে গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় মুরুব্বিসহ এলাকাবাসী একজোট হয়ে মাদকসংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামলে তারা জোটবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করেছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় আব্দুস সোবাহান চৌধুরী ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এজাহার দিয়েছেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মাদকবিরোধী অভিযানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া হামলার ঘটনায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।
Tags: মাদক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান
পরবর্তী নিউজ লোড হচ্ছে...