1. zrtalukder@gmail.com : Zillur Talukder : Zillur Talukder
  2. ranaasad1979@gmail.com : Assaduzzaman Rana : Assaduzzaman Rana
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. protikmahmud@yahoo.com : সিরাজগঞ্জ ইনফো : সিরাজগঞ্জ ইনফো
  5. test@xyz.com : Tech Use : Tech Use
                   
                       

সিরাজগঞ্জ মুক্ত দিবস: ১৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ ইনফো
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
305

১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের সমবেত করে সিরাজগঞ্জ মুক্ত করার জন্য মুক্তিবাহিনী শপথ গ্রহণ করেন।

সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা ১০ ডিসেম্বর শহর থেকে ৩ মাইল দূরে শৈলাবাড়ি ক্যাম্পসহ শহরের বিভিন্ন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে একযোগে আক্রমণ করে। ৩ দিনের এ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতার সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রেল যোগে ঈশ্বরদীর অভিমুখে পালিয়ে যায়।

১৪ ডিসেম্বর ভোরে হাজার হাজার জনতা ও বিজয়ী মুক্তিবাহিনী সিরাজগঞ্জ শহর দখল করে নেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে সিরাজগঞ্জে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মনোবল দুর্বল হতে থাকে। তাদের সহযোগী তথাকথিত শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আল বদরদের সহযোগীরাও সীমাবদ্ধ হতে থাকে। ১৩ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধারা। নিয়ন্ত্রণে নেয় স্থল ও নৌপথ। একমাত্র রেলপথ পাক হানাদারদের দখলে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আমির হোসেন ভুলু, পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জা, আব্দুল আজিজ সরকার, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, যুদ্ধকালীন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, মরহুম লুৎফর রহমান অরুন, কোম্পানি কমান্ডার ও পান্না বাহিনীর প্রধান প্রয়াত টিএম শামীম পান্নাসহ মুক্তিযোদ্ধারা সিরাজগঞ্জের রেলওয়ে ঘাট, যমুনা নদীর তীর এলাকা, কাজীপুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সমবেত হয়।

সিরাজগঞ্জকে হানাদারমুক্ত করার জন্য ৯ ডিসেম্বর শহরের উত্তরে শৈলাবাড়ী পাকিস্তানি ক্যাম্পে হামলা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেদিন তুমুল যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর অস্ত্রের সামনে টিকতে না পেরে পিছু হটেন মুক্তিযোদ্ধারা। ওই যুদ্ধে সুলতান মাহমুদ শহীদ হন। ১০ ডিসেম্বর বিশ্রাম নেওয়ার পর ১১ ও ১২ ডিসেম্বর দফায় দফায় পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালান মুক্তিযোদ্ধারা। ১৩ ডিসেম্বর হানাদারদের ওপর তিন দিক থেকে আক্রমণ শুরু করেন তারা। ওইদিন রাত ৩টা পর্যন্ত যুদ্ধ হয়।

অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে টিকতে না পেরে ট্রেনে করে ঈশ্বরদীর দিকে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা। যুদ্ধে শহীদ হন ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব, সুলতান মাহমুদসহ পাঁচজন।

এ সময় পাকিস্তানী হানাদাররা তাদের পরাজয় জেনে মুক্তিযোদ্ধাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ট্রেন যোগে ঈশ্বরদীর দিকে পালিয়ে যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রবর্তী বাহিনীও রেকি করতে পাঠানো মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে হানাদারদের পালিয়ে যাবার খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ধ্বংস করে ফেলা শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হন।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে দেশ গঠনের শপথ নেন। এখানে প্রয়াত আমীর হোসেন ভুলুকে মুক্তিবাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়ক ও প্রয়াত ইসমাইল হোসেনকে প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে পাকিস্তানি হানাদাররা পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর থানা এলাকাসহ অন্যান্য এলাকা শত্রু মুক্ত হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও সিরাজগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ মিনার ও মুক্তির সোপানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।

01

02

Tags: ,

এই ধরনের আরও নিউজ

1

2

© কপিরাইট ২০২৬-২০২৭ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত