বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না—এমন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয় ৬ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায়। সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। ১০ আগস্ট একটি অফিস আদেশ জারি করে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি ও রিপোর্টিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের লিখিত অনুমোদনক্রমে কেবল অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানো যাবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে হবে।
এছাড়া কোনো শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। জেলার সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ শিক্ষকদের কোচিং/প্রাইভেট পড়ানোর তালিকা তৈরি করে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে প্রতি বিদ্যালয়ে বছরে অন্তত চারটি অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশের নিচে ফলাফল করলে শিক্ষার্থীকে প্রমোশন দেওয়া যাবে না, বরং বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Tags: কোচিং, জেলা শিক্ষা অফিসার