চলনবিল ভ্রমণ
– কারিমুল ইসলাম
বন্ধু ছিলাম তের
চলনবিলে ঘুরতে যাব
তাই বাজার স্টেশনে জরো।
তিনটা কারে সবাই চড়ে
যাত্রা করলাম শুরু,
যাত্রাটা কেমন হবে?
মন করছে দুরু দুরু।
রাত্রে খাব হাসেঁর মাংস
দবিরগন্জে বসে,
একহোটেলে অর্ডার দিলাম
লোকের হিসাব কষে।
গুরুদাসপুরের চাচকোর বাজার
ভালই দেখি বড়,
লক্ষাধিক মানুষ আজ
বাজারে হয়েছে জড়ো।
কয়েক বোঝা ইক্ষু কিনে
খেলুম চিবাই চিবাই,
বাল্য কালের স্মৃতি গুলো
আজো মোদের ভাবায়।
পরে গেলাম স্বর্ণদীপে
বিলষা বাজারের ধারে,
শিং মাছ আর হাঁস খেলাম
যহর নামাজ পরে।
টাকি মাছের ভর্তা দিয়ে
খাওয়া করলাম শুরু,
ঘর তীব্র গরম হলেও
পেট করলাম পুরু।
হোটেল মালিকের ব্যবহার
ছিল অনেক ভাল,
আনোয়াার এত ডাল খেলেও
কষ্ট নাহি পেল।
চলনবিলে নৌকায় চড়ে
যাচ্ছি সোজা তেরে,
হালকা কিছু ক্লান্তি এলো
শরীর দিল ছেড়ে।
দুপদের মিস্টি খেয়ে
শরীর হলো চাংগা,
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি
কোথাও নেই ডাংগা।
অনেক পরে পৌছে গেলাম
ছোট্ট একটি দ্বীপে,
এটাই নাকি ঘাসীর মাজার
ঢেকে আছে ঝোঁপে।
চলার পথে মাঝে মাঝেই
আসে ডিজে নৌকা,
গানের তালে, নেচে গেয়ে
করছে মন চাংগা।
তাদের তালে তাল মিলিয়ে
আমরাও একটু নাচি
আমাদের কি বয়স হয়েছে?
হয়নি এখনও আশি।
তরুনিদের ন্যাকামি দেখে
ঠিক থাকাকি যায়,
চলনবিলের মাঝে থেকেও
চুপ থাকি লজ্জায়।
সিংড়ার পার্কে দেখি
হয়েছে হাটু পানি,
সব কিছুই তলিয়ে গেছে
জানতামনাতো আমি।
নাটোরের ডিসি সাবও
গাড়ির বহর নিয়ে,
পরিজনদের সাথে করে
সিংড়া গেলেন ঘুরে।
বিকেল যখন পাঁচটা হলো
যাত্রা দিলাম ঘুরে,
পরিবেশ তখন অনেক সুন্দর
রোদ গিয়েছে পরে।
নৌকার উপর আছর পরে
ফটো শুট শুরু,
ছবি তুলছে কলেজ বাবু
উনিই ফটোর গুরু।
কেউ উঠছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে
কেউবা বসে বসে,
কেউ উঠছে শুয়ে শুয়ে
মিষ্টি মিষ্টি হেসে।
চলনবিল ছেড়ে এখন
দরিরগন্জে যাব,
অর্ডার দেয়া হাঁসের ভুনা
খিচুরি দিয়ে খাব।
সারা দিন ঘুরে ফিরে
অনেক মজা করে,
মনটা এখন ব্যাকুল হলো
কখন ফিরব ঘরে।
(লেখক ও কবি একজন পেশাদার ব্যাংকার)
Tags: চলনবিল