সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা পেতে অধিকাংশ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ওই কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট থাকায় সঠিক সময়ে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনরা। এরফলে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক/ হাসপাতালে সেবার জন্য যেতে হচ্ছে তাদের।
সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ চিকিৎসা প্রদানে সেখানে নির্ধারিত ১১টি ডাক্তার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন ডাক্তার। চিকিৎসক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে টানাপোড়েনের সেবা কার্যক্রম।
আউটডোর ঘুরে দেখা যায়, আউটডোরের সামনে রোগীদের লম্বা লাইন। কেউ এসেছেন সর্দি-জ্বর নিয়ে, কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। রোগীদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের, যারা ভরসা করেন এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ওপর। অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন, কাঙ্ক্ষিত সেবা তারা পাচ্ছেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এখানে কনসালটেন্ট (গাইনী, শিশু, সার্জারি), মেডিসিন অফিসার, জুনিয়র ডাক্তার, এবং এনেস্থেসিয়োলজিস্টসহ মোট ১১টি পদ থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। দ্রুত আরও দুইজন মেডিকেল অফিসার বদলি হয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর বেশ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বর্তমানে কর্মরতরা অনেকেই অবসরে যাবেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া এই হাসপাতালে গর্ভবতী মহিলাদের সিজার করার অপ্রতুলতা গরীব রোগীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। হাসপাতালে অপারেশনের যন্ত্রপাতি থাকা স্বত্বে সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না। এই গুলো দেখার ও কেউ নেই। নার্সদের আচরণগত সমস্যা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।
কর্মরত এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনজন ডাক্তার দিয়ে দিনে শতাধিক রোগী সামলানো খুব কষ্টকর। ইনডোর, আউটডোর, জরুরি সব সামলাতে হয়। কখনো কখনো একটানা ১২ ঘণ্টাও কাজ করতে হয়। অনেক সময় রোগীদের অপারেশন বা জরুরি চিকিৎসা দিতে গেলে প্রয়োজনীয় এনেস্থেসিয়োলজিস্ট না থাকায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে রোগীর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি চিকিৎসকদের মনোবলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ড.মোঃ মমিন উদ্দিন চিকিৎসকের সল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করেছি। আশা করি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে। রোগীদের চিকিৎসা সমস্যার সমাধান হবে।
Tags: কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স