সিরাজগঞ্জের যমুনা ও ইছামতি নদীর চরজুড়ে আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চরাঞ্চলে ধনেপাতা, লালশাক, মুলা, পুঁইশাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, ডাটা, পালংশাকসহ নানা জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক সবজি বাজারজাতও হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। যমুনার পলিমাটিতে উৎপাদিত এসব সবজি দ্রুত বাজারে ওঠে এবং ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে ফুলকপি ৭০–৮০ টাকা, বেগুন ১০০–১২০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, মুলা ৫০–৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পাকা পেঁপে ৭০–৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
যমুনার চরাঞ্চলের কৃষক জানে আলম জানান, তার ২৬ শতক জমিতে লালশাক, পালংশাক, ধনেপাতা ও মুলা চাষ করেছেন। মুলা ও পালংশাক বিক্রি শুরু হয়েছে, আর লালশাকও কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হবে।

একইভাবে মল্লিকা পাড়া চরের কৃষক শফিকুর ১২ শতক জমিতে লালশাক, পালংশাক ও মুলাশাক চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, যমুনা চরে প্রতিবছরই কৃষকরা আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকদের আরও বেশি লাভ হবে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একে এম মঞ্জুরে মওলা জানান, যমুনার পলিমাটিতে উৎপাদিত সবজি মান ও উৎপাদনে অনন্য। বাজারে ভালো দাম মিলছে, ফলে কৃষকদের লাভজনক অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে।
Tags: বাম্পার ফলন, শীতের আগাম সবজি, সিরাজগঞ্জ