আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী মোট ৩৮ জন। সবগুলো আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের একক প্রার্থী রয়েছে। তবে জোট করায় আসন সমঝোতায় জামায়াতের জোট সঙ্গী এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দুটি আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের জোট সঙ্গীরা সমঝোতার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে মোট প্রার্থীর সংখ্যা কমতে পারে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ নির্বাচন অফিসের অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ৬টি সংসদীয় আসনে শুরুতে ৫৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। দাখিল করেন ৪৫ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাচাইয়ে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। পরে আপিলের মাধ্যমে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮।
আসনভিত্তিক প্রার্থী অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনে মোট সংখ্যা ছয়জন। তারা হলেন বিএনপির সেলিম রেজা, জামায়াতে ইসলামীর শাহিনুর আলম, জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদ (জিওবি) মল্লিকা খাতুন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র শাব্বির হোসেন তামিম এবং নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিবের মনোনয়ন আপিলে বৈধ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ ও কামারখন্দ) আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৬। তারা হলেন বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুহিবুল্লাহ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণ অধিকার পরিষদ (জিওবি)’র মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং আপিলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসনে মোট প্রার্থী পাঁচজন। তারা হলেন বিএনপির আয়নুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক এবং আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহা. আব্দুর রউফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস রেজা রবিন।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে মোট প্রার্থী পাঁচজন। তারা হলেন বিএনপির এম আকবর আলী, জামায়াতে ইসলামীর রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামানিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান এবং আপিলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র আব্দুল হাকিমের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে মোট প্রার্থী ছয়জন। তারা হলেন বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান আলীম, জামায়াতে ইসলামীর আলী আলম, জাতীয় পার্টির আকবর হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুন নবী, গণ অধিকার পরিষদ (জিওবি)’র ইউসুফ আলী এবং আপিলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্ট (সিপিবি)’র মতিয়ার রহমানের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১০। এদের মধ্যে আপিলে দ্বৈত নাগরিকের অভিযোগ ওঠার পরও টিকে রয়েছেন বিএনপির এম এ মুহিত। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মিজানুর রহমান, এনসিপির এস এম সাঈফ মোস্তাফিজ, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিসবাহ উদ্দিন, আমজনতার দলের আসাদুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবিপার্টি)’র আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সাদাত, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র ইলোনা খাতুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (বিআইএফ) মোশারফ হোসেন শহিদুল বৈধ প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের অন্যরকম চা আড্ডা
Tags: নির্বাচন ২০২৬