জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনকালীন কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দূতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি)।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। দূতি অরণ্য চৌধুরী বলেন, দলের সাম্প্রতিক জোট সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এখনো দল থেকে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমার দল যে রাজনৈতিক জোটে অংশগ্রহণ করেছে, সেটি আমার ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই নির্বাচনকালীন সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। পদত্যাগের বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
দূতি অরণ্য চৌধুরী বর্তমানে এনসিপির সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ছাড়াও জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
একই বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি ‘নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ এবং মধ্যপন্থার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। দলটির জন্মলগ্নে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সেই আদর্শের প্রতি আস্থাশীল হয়েই তিনি এনসিপিতে যুক্ত হন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিকবার ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় জোটে শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দল তার ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
দূতি অরণ্য চৌধুরী অভিযোগ করেন, ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রবঞ্চনার শামিল। তিনি বলেন, “নিজের নৈতিকতা ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এবং জনতার বিশ্বাসের অমর্যাদা করে এই জোটের প্রার্থী হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। দল মনোনয়ন দিলেও আমি এই জোটের প্রার্থী হতাম না।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে তিনি জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি দলের সব নির্বাচনকালীন কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার রাজনীতির জন্য নয়, জনতার অধিকার রক্ষা ও নতুন রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। নতুন রাজনীতি ও মজলুম মানুষের পক্ষে আজীবন কথা বলে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
Tags: এনসিপি, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, নির্বাচন ২০২৬