সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্কে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের বিরুপাচরণ, বিল উত্তোলন ও নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরে বিসিক কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে।
বিসিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিসিক শিল্পপার্কে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগ যাচাইয়ের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুরকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস জামান এবং সদস্যসচিব প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান। অন্যান্য সদস্যরা হলেন পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসমাউল ইসলাম সিয়াম, সহকারী প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন এবং শিল্পপার্কের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান হিরন্ময় বর্ধন।
কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিল্পপার্কের প্রকৃত অগ্রগতি, নির্মাণকাজের গুণগত মান, মাটি ভরাট এবং প্রকল্প সম্পর্কিত কার্যক্রম সরেজমিনে যাচাই করার জন্য। সে অনুযায়ী গত ১৬ নভেম্বর তারা মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার শিল্পপার্ক এলাকায় দেখা যায়, তদন্ত দল রাস্তা, ড্রেন, প্লট এবং অন্যান্য স্থাপনা ঘুরে দেখে অবস্থার মূল্যায়ন করছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে যোগসাজশে বিসিক প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদ প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ২০২৩–২৪ অর্থবছরের জুনে শতভাগ বিল উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন। চলতি বছরের ৩০ জুলাই প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও মাটি ভরাটে অনিয়মের কারণে উদ্যোক্তারা এখনো শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারছেন না। শিল্পপার্কের কয়েকটি প্লটে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ৬ মার্চ শিল্পপার্ক এলাকা পরিদর্শন করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। উদ্যোক্তাদের অভিযোগে বলা হয়, প্লটগুলোর উপযোগিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় সঠিকভাবে মাটি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’
আহ্বায়ক ফেরদৌস জামান জানান, তাদের পাশাপাশি আরেকটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ‘গণমাধ্যমে কথা না বলার’ নির্দেশনা রয়েছে।
যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে পাঁচটি মৌজায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে বিসিক শিল্পপার্ক। প্রকল্পটি কয়েক দফা সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট ৮২৯টি প্লটের মধ্যে ৫৭০টিতে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্প চালু হলে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও অনিয়মের দায়ে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
Tags: বিসিক শিল্প পার্ক