সিরাজগঞ্জ জেলায় বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার কারণে ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কৃষি, পশুপালন ও মৎস্য খাতে কিছু চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ দেখা দিতে পারে বলে কৃষি আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
জেলা কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ সেবা বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত চার দিনে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩২ দশমিক ১ থেকে ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৮ থেকে ২৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা ৭৬ থেকে ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৯ থেকে ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হবে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।
ফসলের অবস্থা ও করণীয়
আমন ধানের ২৫ থেকে ৩০ দিনের চারা রোপণের জন্য এটি উপযুক্ত সময়। রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পর প্রতি বিঘায় ৮ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। বৃষ্টির পরে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে দ্রুত নিষ্কাশন করতে হবে। পামরী পোকা ও গোড়া পচা রোগ থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ ও বীজ শোধন জরুরি। আউশ ধান বর্তমানে দানা জমাট বাঁধা পর্যায়ে রয়েছে, তাই বৃষ্টির পরে সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত পানি সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। সবজি চাষে আগাম শীতকালীন সবজির বীজতলায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, বর্ষায় চারার ক্ষতি রোধে পলিথিন ছাউনি ব্যবহার করা দরকার। কুমড়া জাতীয় ফসলে মাচা ব্যবহার এবং ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে ম্যালাথিয়ন স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্যান ফসলে কলাগাছে খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া, সিগাটোকা রোগ ও পেঁপেতে মিলিবাগ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক স্প্রে এবং বৃষ্টির পর বালাইনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
পশুপালন খাত
গবাদিপশুকে কৃমিনাশক খাওয়ানো, গোয়ালঘর জীবাণুমুক্ত রাখা এবং ভেজা ঘাসের পরিবর্তে শুকনো খাবার সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাঁস-মুরগীর খামারে রোগ প্রতিরোধে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।
মৎস্য খাত
পুকুরে আংশিক আহরণ ও পুনঃমজুদ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ এবং পুকুরে নির্ধারিত হারে সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
আখ চাষ
১৩৫ দিন বয়সী আখের জন্য তৃতীয় ও শেষ সার প্রয়োগ এবং গোড়ায় মাটি দিতে হবে। প্রবল বাতাসে আখ যেন না ভেঙে যায়, সে জন্য বেঁধে দেওয়া জরুরি।
বিশেষ বার্তা
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত ধারা ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই সময়মতো সেচ, সার ও বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা করলে উৎপাদন ভালো হবে।
Tags: আবহাওয়া, সিরাজগঞ্জ জেলায় কৃষি, সিরাজগঞ্জের কৃষি