আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৪২টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে কারিগরি কমিটি। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ ১ ও ২ আসনের সীমানা নির্ধারণে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।
কমিশনের অনুমোদনের পর প্রস্তাবিত ৩০০ আসন নিয়ে ১০ আগস্টের মধ্যে দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার জানান, যে আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে সেখানে একটি আসন বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি। এছাড়া সবচেয়ে কম ভোটার যে আসনে, সেখান থেকে একটি আসন কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব করেছে কমিটি। এক্ষেত্রে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানোর এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ করা হবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। পরে আসন ভিত্তিক শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপত্তি কম থাকলে দ্রুতই চূড়ান্ত হবে সীমানা নির্ধারণ।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ৩৯টি আসনে ছোট-বড় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো- পঞ্চগড় -১ ও ২। রংপুর- ৩। সিরাজগঞ্জ -১ ও ২। সাতক্ষীরা-৩ ও ৪। শরিয়তপুর- ২ ও ৩। ঢাকা ২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯। গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬। নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪ ও ৫। সিলেট- ১ ও ৩। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩। কুমিল্লা ১, ২, ১০ ও ১১। নোয়াখালী ১, ২, ৪ ও ৫। চট্টগ্রাম ৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট ২ ও ৩।
নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের এখতিয়ার ইসির। এই ধারাবাহিকতায় ইসি একটি কমিটি গঠন করে। পরবর্তী সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জুলাই সীমানা নির্ধারণে ভূগোলবিদ, নগরবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী টিম ৬৪ জেলার ৩০০ আসনের সীমানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আদমশুমারিকে গুরুত্ব দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।
Tags: ইসি, নির্বাচন কমিশন, সংসদ নির্বাচন