সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ে প্রকাশ্যে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদ (১৭) হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির একটি দল বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির অপারেশনস অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি।
র্যাব জানায়, বুধবার দুপুরে র্যাব সদর কোম্পানির একটি দল ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানি’তে অভিযান চালিয়ে মো. সাকিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তার সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মতির ছেলে।
এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড় বাহিরগোলা রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে রাতে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিয়াদ শহরের সয়াধানগড়া খাঁ পাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে এবং ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যও ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফুটেজে দেখা যায়, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে থাকা অবস্থায় রিয়াদকে বিভিন্ন দিক থেকে ঘিরে ধরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায় একদল যুবক।
এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. সাকিনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিকেলে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে পরিকল্পিতভাবে রিয়াদকে চৌরাস্তা মোড়ে আনা হয়। সেখানে সাকিনসহ অন্য আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে সাকিন বার্মিজ চাইনিজ টিপ চাকু দিয়ে রিয়াদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অন্য আসামিরাও কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার সাকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। এ মামলায় এরই মধ্যে আরও দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Tags: রিয়াদ হত্যা