দেশের মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। কল করার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ও রিলস-শটস-টিকটক দেখাকে অনেকে অভ্যাসে পরিণত করার পাশাপাশি বহু কাজ করা যায় মোবাইল ফোন দিয়ে। আয়েরও বড় সুযোগ তৈরি করেছে এই মোবাইল ফোন, তবে জানতে হবে সঠিক ব্যবহার।
স্মার্টফোনের মাধ্যমে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ঘরে বসেই বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা, দক্ষতা আর সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া।
আসুন জেনে নেই কীভাবে তা সম্ভব?
১. ফ্রিল্যান্সিং
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় আয়ের পথ হলো ফ্রিল্যান্সিং। মোবাইল দিয়েই অনেক কাজ করা সম্ভব—
* গ্রাফিক্স ডিজাইন (ক্যানভা, পিক্সল্যাব অ্যাপ ব্যবহার করে)
* সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
* কনটেন্ট রাইটিং
* ভিডিও এডিটিং (ক্যাপকাট, কাইনমাস্টার অ্যাপ দিয়ে)
ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডটকমে প্রোফাইল খুলে কাজ পাওয়া যায়।

২. অনলাইন টিউশনি
যারা পড়াশোনায় ভালো, তারা মোবাইলের সাহায্যে অনলাইন টিউশনি করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপ, জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ানো যায়। এতে ভালো আয় হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাদান অভ্যাসও তৈরি হয়।
৩. ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েশন
ভিডিও বানানোর শখ থাকলে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করে আয় করা সম্ভব। ফেসবুক পেজ থেকেও এখন ইনকাম করা যায়। তবে এর জন্য মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি এবং নিয়মিত আপডেট করা জরুরি।
৪. অনলাইন ব্যবসা
মোবাইল দিয়ে সহজেই অনলাইন ব্যবসা করা যায়। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম শপ অথবা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে (দারাজ, আজকেরডিল ইত্যাদি) প্রোডাক্ট বিক্রি করা সম্ভব। কাপড়, কসমেটিকস, হ্যান্ডমেড পণ্য, বই ইত্যাদি বিক্রি করে আয় করা যায়।
৫. ব্লগিং ও কনটেন্ট রাইটিং
যারা লেখালেখিতে পারদর্শী, তারা ব্লগ লিখে গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। মোবাইল দিয়েই ব্লগ মেইনটেইন করা যায়। আবার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কনটেন্ট রাইটার হিসেবেও কাজ করা যায়।

৬. অনলাইন সার্ভে ও অ্যাপ
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি বা অ্যাপ মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সার্ভে নিয়ে থাকে। এসব সার্ভে পূরণ করলে কিছু অর্থ বা গিফট কার্ড পাওয়া যায়। যদিও আয় খুব বেশি নয়, তবে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৭. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়, তারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রোডাক্টের লিংক শেয়ার করে বিক্রি হলে কমিশন পাওয়া যায়। অ্যামাজন, দারাজ, আলিএক্সপ্রেসসহ অনেক প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ দেয়।
সতর্কতা
* মোবাইল থেকে ইনকাম করার নামে অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট ও অ্যাপ মানুষকে প্রতারণা করে। তাই আগে যাচাই না করে কোথাও টাকা বিনিয়োগ করবেন না।
* ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করলে সফল হওয়া যায়, তড়িঘড়ি করলে নয়।
* আসল আয় দক্ষতার উপর নির্ভর করে। তাই আগে দক্ষতা গড়ে তুলুন।
মোবাইল শুধু বিনোদনের জন্য নয়, আয়েরও মাধ্যম। সঠিক ব্যবহার করলে ঘরে বসে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ব্যবসার পাশাপাশি ভালো অঙ্কের বাড়তি ইনকাম করা সম্ভব। তাই মোবাইলকে শুধু সময় নষ্টের হাতিয়ার বানিয়ে নয়, আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগান।
Tags: মোবাইল ব্যবহারে ইনকাম