সিরাজগঞ্জ–১ (কাজীপুর) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তাদের জোটভুক্ত এবি পার্টির প্রার্থী শাব্বির আহমদ তামীম।
কাজীপুর উপজেলা ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসলেও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটাররা নতুন করে ভাবছেন কাকে ভোট দেবেন। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ জানান, তারা বরাবরের মতোই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দলকেই সমর্থন দিতে চান। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কাজীপুরে জামায়াতের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট কখনোই পাননি।
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও নতুন প্রার্থী হয়েও অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন শাব্বির আহমদ তামীম। ব্যক্তিগতভাবে ক্লিন ইমেজ ও উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় ভোটারদের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে মত অনেকের।

এলাকার ছাত্র জাফর বলেন, “এবি পার্টির প্রার্থী শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের। আমরা এমন একজনকে ভোট দিতে চাই, যিনি ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকেই ভোট দেব।”
স্থানীয় দোকানদার সাজেদুল বলেন, “এই এলাকার মানুষ স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধীদের এখানে কেউ পছন্দ করে না।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে এসেছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগ সমর্থিত। বিএনপির একটি সাংগঠনিক ভিত্তি থাকলেও জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি এখানে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

নারী ভোটার জান্নাতি বলেন, “এই এলাকার প্রায় অর্ধেক ভোটার নারী। এবি পার্টির প্রার্থী নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার কথা বলেছেন। অথচ জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, এতে বোঝা যায় তারা নারী বান্ধব নয়।”

স্থানীয়দের মতে, অতীতের কোনো নির্বাচনেই কাজীপুরে জামায়াতের ভোটের ফল ভালো ছিল না এবং বিএনপিও কখনো এ আসনে জয় পায়নি। সব দলের প্রার্থী নতুন হওয়ায় পারিবারিক ঐতিহ্য, ক্লিন ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে এবি পার্টির প্রার্থী শাব্বির আহমদ তামীম আগামী নির্বাচনে চমক দেখাতে পারেন বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।
Tags: এবি পার্টি, নির্বাচন ২০২৬