মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার খোকশাবাড়ীর হর্টিকালচার সেন্টারের হল রুমে বুধবার (৫ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ২ দিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হর্টিকালচার সেন্টার এ কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাস্তবায়ন করে।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে প্রশিক্ষক ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, সিরাজগঞ্জ খামার বাড়ীর উপ পরিচালক মঞ্জুরে মওলা, অতিরিক্ত উপ পরিচালক উদ্যান জেরিন আহমেদ।
দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষক ছিলেন, মসলা গবেষণা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ, বগুড়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোঃ নুর আলম চৌধুরী, গোলাবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র উদ্যান তথ্যবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম, রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মমিনুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণার্থী রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের মাসুদ রানা, রায়গঞ্জ পৌরসভার বেতুয়া মহল্লার গোলাম মোস্তফা বলেন, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদা, হলুদ, কালোজিরা, মৌরি, মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়া, গোলমরিচ, তেজপাতা, দারুচিনি, জিরা, চুইঝাল ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা আবাদ, স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ মসলা ব্যবহার ও বাজারজাত করণের উপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের ব্যাপক উপকার হয়েছে। মসলা চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন তারা।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চর ছোনগাছা গ্রামের কৃষাণী মরিয়ম বেগম বলেন, হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মসলা চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েছি। এবং অতরিক্ত মসলা বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি। অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতাও ফিরে এসে। এবছর বড়ো আকারে মসলা চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র উদ্যান তথ্যবিদ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী ও মৌসুমী পতিত জমির পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙ্গিনার ফাকা জায়গা আবাদের আওতাভুক্ত করে ২-৫% শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মসলা ফসলের ফলন করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।
Tags: কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ, হর্টিকালচার সেন্টার