সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চল থেকে শুরু করে উঁচু দোআশ জমি পর্যন্ত—সবখানেই এবার আখের বাম্পার ফলনে ভরে উঠেছে মাঠ। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আখ মাড়াই ও গুড় তৈরির ব্যস্ততা। নতুন গুড় উঠেছে বাজারে, দামও ভালো। এতে খুশির হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় জাতগুলো হলো আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি, বোন ও চুষে খাওয়ার আখ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ও মেছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, চাষিরা মাঠে ব্যস্ত আখ কাটায়। চরাঞ্চলে ভ্যানে ভ্যানে আখের রস বিক্রি হচ্ছে, আবার সেই রস জ্বালিয়ে তৈরি হচ্ছে সুগন্ধি নতুন গুড়। বর্তমানে প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আর খাঁটি গুড় প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া চরের কৃষক আবুল কালাম বলেন, '২৫ শতক জমিতে আখ চাষে আমার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এবার ফলন ভালো, বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকার বেশি পাবো ইনশাআল্লাহ। খরচ তুলেই দ্বিগুণ লাভ হবে।' কাওয়াকোলার চাষি মজিদ হোসেন জানান, '৪০ শতক জমিতে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার আখ হবে। প্রতিপিস ১২ টাকায় বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি আয় সম্ভব।' তবে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিনি ও আটা মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছে, যা প্রকৃত আখচাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বাজার মনিটরিং বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. মঞ্জুরে মওলা বলেন, 'আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আখের উৎপাদন অসাধারণ হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, ফলে আগামী মৌসুমে আখ চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে।' সব মিলিয়ে এ মৌসুমে সিরাজগঞ্জের আখচাষ যেন কৃষকের জীবনে মিষ্টি স্বপ্নের বাস্তব রূপ এনেছে।
116
সিরাজগঞ্জ জেলার চরাঞ্চল থেকে শুরু করে উঁচু দোআশ জমি পর্যন্ত—সবখানেই এবার আখের বাম্পার ফলনে ভরে উঠেছে মাঠ। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আখ মাড়াই ও গুড় তৈরির ব্যস্ততা। নতুন গুড় উঠেছে বাজারে, দামও ভালো। এতে খুশির হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় জাতগুলো হলো আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি, বোন ও চুষে খাওয়ার আখ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ হারে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ও মেছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, চাষিরা মাঠে ব্যস্ত আখ কাটায়। চরাঞ্চলে ভ্যানে ভ্যানে আখের রস বিক্রি হচ্ছে, আবার সেই রস জ্বালিয়ে তৈরি হচ্ছে সুগন্ধি নতুন গুড়। বর্তমানে প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আর খাঁটি গুড় প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া চরের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘২৫ শতক জমিতে আখ চাষে আমার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এবার ফলন ভালো, বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকার বেশি পাবো ইনশাআল্লাহ। খরচ তুলেই দ্বিগুণ লাভ হবে।’
কাওয়াকোলার চাষি মজিদ হোসেন জানান, ‘৪০ শতক জমিতে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার আখ হবে। প্রতিপিস ১২ টাকায় বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি আয় সম্ভব।’
তবে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিনি ও আটা মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছে, যা প্রকৃত আখচাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বাজার মনিটরিং বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. মঞ্জুরে মওলা বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আখের উৎপাদন অসাধারণ হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, ফলে আগামী মৌসুমে আখ চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে।’
সব মিলিয়ে এ মৌসুমে সিরাজগঞ্জের আখচাষ যেন কৃষকের জীবনে মিষ্টি স্বপ্নের বাস্তব রূপ এনেছে।