সিরাজগঞ্জে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় এখন পর্যন্ত ২৫৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই মাদকসেবী—যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, বিশেষ করে সমকামী যৌন সম্পর্কও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলায় এইচআইভি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর মাত্র ৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। ২০২১ সালে ৮ জন, ২০২২ সালে হঠাৎ বেড়ে শনাক্ত হয় ৮১ জন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ২০২৫ সালে সংক্রমণের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরাজগঞ্জে মাদকসেবীদের মধ্যে সুচের আদান–প্রদানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের হারও সংক্রমণের বিস্তার বাড়াচ্ছে। তারা মনে করেন, সচেতনতা না থাকা, নিরাপদ যৌন আচরণের অনুপস্থিতি এবং সামাজিক কুসংস্কারের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ পরীক্ষা করাতে এগিয়ে আসে না, ফলে সংক্রমণ আরও গোপনে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা বলেন, এইচআইভি শুধু চিকিৎসাজনিত চ্যালেঞ্জই নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় হুমকি। দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেন, সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সিরাজগঞ্জে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ আচরণ ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন—এইচআইভি প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ।
Tags: এইচআইভি আক্রান্ত রোগী, সিরাজগঞ্জ