আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে চূড়ান্তভাবে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ আসনে একই জোটের শরিক দল হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী জোটের এনসিপি ও এবি পার্টির আলাদা প্রার্থী থাকার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সা’দাত, যিনি ঈগল প্রতীক পেয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী শুরুতে মনোনয়ন দিলেও পরে দলটির প্রার্থী মিজানুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। কিন্তু জামায়াত জোটের এনসিপির এস. এম. সাইফ মোস্তাফিজ (শাপলা কলি) একই আসনে মুখোমুখি হয়েছেন।
একই আসনে প্রার্থী দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. এমএ মুহিত (ধানের শীষ)। ১০ দলীয় জোট এনসিপির এস. এম. সাইফ মোস্তাফিজ (শাপলা কলি), জেএসডির ইলোরা খাতুন (তারা), জাতীয় পার্টির মো. মোক্তার হোসেন (লাঙল), বাসদের মো. আনোয়ার হোসেন (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেজবাহ উদ্দিন (হাতপাখা), আম জনতা পার্টির আসাদুল হক (প্রজাপতি), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. মোশারফ হোসেন শহিদুল (মোমবাতি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির (ঘোড়া) ও মো. ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস (হেলিকপ্টার) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার আমিনুল ইসলামের কার্যালয়ে এসব প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, এ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে শফিকুল ইসলাম সালামের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই জোটের শরিক হলেও শুরুতে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার ঘটনা ভোটারদের মধ্যে কৌশলগত প্রশ্ন তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও এনসিপির ও এবি পার্টির প্রার্থী মাঠে থাকায় জোটের ভেতরের সমন্বয় ও ভোটের অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছেই।
Tags: এনসিপি, এবি পার্টি, নির্বাচন ২০২৬