সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন হেলথসিটি বিষয়ে চতুর্থ কৌশলগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটিতে বিনিয়োগকারীরা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের অনেকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং অন্যরা অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হন।
৩ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ইকোনমিক জোনের অফিসে এই বৈঠক আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ এবং হেলথসিটি আলোচনা গ্রুপ বাংলাদেশের সফরে থাকা অধ্যাপক ডা. আয়াজ চৌধুরীকে স্বাগত জানান। তিনি একজন সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
এই বৈঠকে SEZL HEALTH-CITY উদ্যোগের উদ্যোক্তা অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. এম জি আজম, অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ রহমান, অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবির এবং অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এসকান্দারসহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি অংশ নেন অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সভাপতি আবদুল খান রতন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শাহে আলম পাটোয়ারী, মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইন্দু প্রভা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. নূর আলম ও অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম, ফার্মাসিউটিক্যাল কনসালট্যান্ট মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ফিন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট তৌফিকুর রহমান এবং স্ট্যাটক্লিনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মো. সাইফুল ইসলাম।
সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেডের পক্ষ থেকে বৈঠকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন ও প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হাই এবং সাবেক সচিব আব্দুল বাকী।

বৈঠকের শুরুতে SEZ HEALTH-CITY প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে মো. আব্দুল্লাহ প্রকল্পটির লক্ষ্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গবেষণাভিত্তিক হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একটি কার্যকর ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন কাজ করবে। এর ফলে ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের সঙ্গে গবেষণা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে এবং শুরুতে ১০০ থেকে ১৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দিয়ে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব।
সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার ঘাটতি রয়েছে এবং এই উদ্যোগে গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি শুরু করার পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক ডা. আয়াজ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করলে সেখান থেকে আয় সৃষ্টি হবে এবং সেই অর্থ ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যাবে। তিনি উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকেরা অনলাইনে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই উদ্যোগে সহায়তা দিতে পারেন।
অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবির অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান এবং প্রস্তাব দেন, প্রকল্পটিকে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নামে পরিচিত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে আবদুল খান রতন বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
অধ্যাপক ডা. নূর আলম এবং অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনার মাধ্যমে SEZ HEALTH-CITY উদ্যোগকে একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে।
Tags: সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন, হেলথসিটি