চলনবিলসহ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার জলাভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘটতে শুরু করেছে অতিথি পাখিদের আগমন। পাখিদের আগমনে চলনবিল প্রাকৃতি সৌন্দর্যে ভরে উঠতে শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তীব্র ঠান্ডা ও খাদ্যাভাব এড়াতে পাখিরা অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে সাধারণত বাংলাদেশে আসে।
চলনবিলে বিভিন্ন জাতের পাখি দেখতে ইতিমধ্যে ভিড় জমাচ্ছে স্থানীয় মানুষজন। তবে পাশাপাশি এক শ্রেণির পরিবেশবিরোধী পাখি শিকারি জাল ও খাঁচার দিয়ে অতিথি পাখি শিকার করে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিলাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রতিটি বক ৯০ থেকে ১০০ টাকা, রাতচোরা ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা জোড়া, বালিহাঁস ৩২০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
সিরাজগঞ্জের মৎস্য ও শস্য ভান্ডারখ্যাত তাড়াশ চলনবিলে অতিথি পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন ঘটছে। জানা গেছে, চলনবিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিল। যদিও অনেকগুলোর অস্থিত্ব এখন আর পাওয়া যাবে না। এই মৌসুমে পানি এখনও না শুকালেও চলন বিল ও বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীর চর এলাকায় অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। এছর আগেই যমুনা চর ও চলনবিলে নিজের আহার জোগাতে বক, ইটালি, শর্লি, পিয়াজ খেকো, ত্রিশুল,বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামকৈলসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন ঘটছে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই সকল পাখি জেলার বিভিন্ন মাঠে ও গাছে অবস্থান করে। সকাল থেকেই খাবারের খোজে ভিড় করে বক, বালিচোরা, পানকৈড় রাতচোরাসহ নানা প্রজাতির পাখি।

অতিথি পাখি চলনবিলকে প্রতিবছরই নতুন রূপে সাজায়, এই পাখিগুলো বছরে একবার আসে এবং চলনবিল জুড়ে উড়ে বেড়ায় আর রক্ষা করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। এই অতিথি পাখিগুলো যেন কোন অসাধু পাখি শিকারি পাখি শিকার করতে না পারে সে দিকে সচেতন মহলসহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান স্থানীয় পরিবেশ প্রেমীদের।
এবিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেন, অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খায়। যেকারনে ফসলে কীটনাশক ব্যবহার কম করতে হয় ফলে কৃষকদের ফসল উৎপাদন খরচও কম হয়। এছাড়া এদের বিষ্ঠা জমিতে সার হিসাবে কাজ করে।
Tags: অতিথি পাখি, চলনবিল