সিরাজগঞ্জে প্রায় দেড় শতবছরের ঐতিহ্যে গড়ে উঠেছে গাভী পালন ও দুধ উৎপাদনের সমৃদ্ধ ইতিহাস। জেলার বিভিন্ন খামার থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত দুধ পৌঁছে যাচ্ছে সারাদেশে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সঠিক বিপণন ব্যবস্থার অভাবে এখানকার ঘি, ছানা, পনির, দইসহ নানা ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য বড় বাজার ধরতে পারেনি।
তবে আশার কথা হলো—বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় বদলে যাচ্ছে চিত্র। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বিশ্বব্যাংক ও এনজিও এনডিপির সহযোগিতায় ‘সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি)’ ও ‘স্মার্ট ডেইরি প্রকল্প’-এর মাধ্যমে জেলার শত শত উদ্যোক্তা পাচ্ছেন প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত সহায়তা।
শুধু শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়াতেই দেড় হাজারের বেশি উদ্যোক্তা প্রতি মাসে তৈরি করছেন প্রায় ৩০ টন পনির ও হাজার হাজার কেজি ঘি। বছরে এই খাত থেকে আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। উদ্যোক্তাদের অনেকে এখন বিএসটিআই সনদ নিয়ে মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাত করছেন দেশে বিদেশে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন,’সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় উদ্যোক্তারা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, এতে খরচ কমছে, উৎপাদন বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, যারা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী। তবে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছি—নিজস্ব ঘাস উৎপাদন ও সাইলেজ ব্যবহারে মনোযোগী হতে। এতে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, জেলায় ছোট-বড় ১১ হাজারের বেশি দুগ্ধ খামার রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুধ উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১৯ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে দেড় লাখ লিটার সংগ্রহ করে মিল্ক ভিটা, প্রাণ ও আড়ং-এর মতো প্রতিষ্ঠান।

উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সহায়তা অব্যাহত থাকলে সিরাজগঞ্জ অচিরেই দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
Tags: দুগ্ধখামার, দুধ, মিল্কভিটা সিরাজগঞ্জ