দুধের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রায় ছয় শতাধিক খামারি দুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। রবিবার (২ নভেম্বর) থেকে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে তারা দুধ দেওয়া বন্ধ রাখেন। বর্তমানে মিল্ক ভিটা খামারিদের কাছ থেকে প্রতি লিটার দুধ ফ্যাট ভেদে ৫০ থেকে ৫১ টাকায় ক্রয় করছে। তবে খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতি লিটারে অন্তত ১০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি দাবি করে আসছেন।
বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) আওতাধীন এ শীতলীকরণ কেন্দ্রে উপজেলার ৩৫টি প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করা হতো।
খামারির দুধ সরবরাহ বন্ধ বিষয়ে কয়রা খামারপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক আলী হোসেন বলেন, “বর্তমান বাজারে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে দুধ বিক্রি করে খামারিরা লোকসান গুনছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুধের দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।”
সড়াতলা প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, “ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের অক্টোবর মাসের মধ্যে দাম কিছুটা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় আমরা ৩৫টি সমবায় সমিতি একযোগে ২ নভেম্বর থেকে দুধ সরবরাহ বন্ধ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “লোকসান দিয়ে মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করার চেয়ে আমরা প্রয়োজনে স্থানীয় হাট-বাজারে দুধ বিক্রি করব।”
একই অভিমত ব্যক্ত করেন বাল্যপাড়া সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক মো. শাহীন ও এলংজানি সমবায় সমিতির সভাপতি আল আমিন হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে লাহিড়ী মোহনপুর দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কেন্দ্রটি মিল্ক ভিটার আওতাধীন একটি ক্রয়কেন্দ্র। স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে আমরা ঢাকার তেজগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাই। খামারিরা সরবরাহ বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় খামারিদের দুধের মূল্য বৃদ্ধির দাবি ইতোমধ্যে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ।
Tags: দুধ সরবরাহ বন্ধ, মিল্ক ভিটা