সরিষার ভরা মৌসুমে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নামকরা ‘কাশেম বিল’ পরিণত হয়েছে হলুদের স্বপ্ন রাজ্যে। প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়সহ রাজধানী থেকে আসা পর্যটকেরা। এখানকার শত শত বিঘা জমির সরিষা ফুলের হলুদের মেলায় সময় কাটানোর পাশাপাশি সেলফি নিতে ব্যস্ত তারা।
সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কাশেম বিল এলাকা হয়ে সাবমারজিবল সড়ক বয়ে গেছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুপাশে শত শত বিঘা জমিতে ফি বছরের মতো এবারেও সরিষা ফসলের আবাদ করা হয়েছে। এখানকার মাঠগুলোয় সরিষা ফসলে ফুল এসেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলে দেখে মনে হয় হলুদের মেলা জমেছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা এলাকা থেকে নানা বয়সের লোকজন এখানে (সরিষা ফুলে ভরপুর) বেড়াতে আসেন।
সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, পাকা সড়ক পথে অটো রিকসাভ্যানে লোকজন চলাচল করছেন। এদের কেউ ভ্যান ঠেকিয়ে নেমে সরিষা ফুলের মাঝে নিজদের ছবি তুলছেন। কাশেম বিল এলাকায় সোনতলা এলাকা থেকে দুজন বেড়াতে এসেছেন। এছাড়া দুটি মোটর সাইকেলে চার যুবক রামকৃষ্ণপুর এলাকা বেড়াতে এসেছেন। এরা সরিষা ফসলের জমিতে নেমে ফুলের মাঝে দাড়ায়ে বসে ছবি তুলছেন।
কাশেম বিলের পাকা সড়কের পাশের বটগাছ তলার আশেপাশে গড়ে উঠেছে কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অস্থায়ী অটোরিক্সার স্টপেজ। বসার জন্য থাকা বাঁশের মাচালে লোকজন বসে সময় কাটান।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিঞা বলেন, কাশেম বিল এলাকায় এবারে একটু দেরিতে বেড়াতে আসতে শুরু করেছে লোকজন। দিনে দিনে বাড়ছে এখানে আসা জনগণের সংখ্যা। বিকেলের দিকে অটো রিকসা ও মোটর সাইকেলে করে বেশি আসেন জনগণ। তারা সরিষা ফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে বসে ছবি তোলেন।
এলাকায় মাঠে নিজেদের আবাদ করা সরিষা ফসল দেখতে আসা আরো কয়েকজন কৃষক বলেন, বিকেলের দিকে কিছু লোক আসেন। এরা আসেন আর নিজেদের ছবি তোলেন। এদিকে উধুনিয়া এলাকাতেও সরিষা ফুলে ভরপুর এলাকা দেখতে লোকজনের উপস্থিতি বেড়েছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার কিছু পর্যটন প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের পর্যটন হিসেবে কাশেম বিলের সরিষা ক্ষেত, নবরত্ন মন্দির ও চায়না বাঁধকে ফোকাস করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন, এতে করে জেলার পর্যটন শিল্প কিছুটা গতি পাচ্ছে। এছাড়া কিছু আলোকচিত্রী কাশেম বিলের সরিষা ক্ষেতের ছবি সামাজিক মাধ্যমে দিলে তা ভাইরাল হয়ে দেশের মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পায়।
Tags: সিরাজগঞ্জের সরিষা ক্ষেত, হলুদ রাজ্যে