মানব শরীর বিভিন্ন সময় নিজেই জানিয়ে দেয় তার কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হচ্ছে। ক্লান্তি, মুড পরিবর্তন, চোখ কাঁপা বা চুল পড়ার মতো সাধারণ নানা লক্ষণ অনেক সময় ভিটামিন ও মিনারেল ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখলে এসব সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।
কী খেলে সুস্থ থাকবেন নিচে ১৭টি সাধারণ সংকেত ও তাদের সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হলো।
১. চকলেট খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা
সম্ভাব্য ঘাটতি: ম্যাগনেসিয়াম
শরীরে ম্যাগনেসিয়াম কমে গেলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়ে।
সমাধান: বাদাম, কলা, ডার্ক চকলেট ও শাকসবজি খান।
২. চোখের পাতা কাঁপা
সম্ভাব্য ঘাটতি: ইলেক্ট্রোলাইট, ভিটামিন B12, ভিটামিন D, ম্যাগনেসিয়াম
স্নায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হলে এমন হয়। পর্যাপ্ত ঘুম, সূর্যের আলো ও দুধ, কলা, মাছ খান।
৩. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মুড খারাপ
সম্ভাব্য ঘাটতি: ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন D, বি-ভিটামিন
সেরোটোনিন হরমোন কমে গেলে মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
সমাধান: ওটস, বাদাম, ডার্ক চকলেট ও ব্যায়াম করুন।
৪. নখে সাদা দাগ
সম্ভাব্য ঘাটতি: জিঙ্ক ও ক্যালসিয়াম
প্রোটিন সংশ্লেষে সমস্যা হলে এমন হয়। দুধ, ডিম, মাছ, বাদাম খান।
৫. স্বাদ বা গন্ধের অভাব
সম্ভাব্য ঘাটতি: জিঙ্ক, কপার, নিকেল, বি-ভিটামিন
সামুদ্রিক মাছ, লিভার, ডিম ও শস্যজাত খাবার উপকারী।
৬. মাটি বা বরফ খাওয়ার ইচ্ছা
সম্ভাব্য ঘাটতি: আয়রন
রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে এমন ইচ্ছা হয়। পালং শাক, লিভার, ডাল ও খেজুর খান।
৭. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
সম্ভাব্য ঘাটতি: পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম
ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃদযন্ত্রে প্রভাব পড়ে। কলা, নারকেল পানি ও দই খান।
৮. হাত-পায়ে ঝিমঝিম ভাব
সম্ভাব্য ঘাটতি: ভিটামিন B12 ও ক্যালসিয়াম
স্নায়ুর দুর্বলতার ফল। ডিম, দুধ ও মাছ খেতে পারেন।
৯. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ওজন বেড়ে যাওয়া
সম্ভাব্য ঘাটতি: আয়োডিন
থাইরয়েডের ভারসাম্য নষ্ট হলে এ সমস্যা হয়। আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক খাবার খান।
১০. পা ফাটা ও শুষ্ক হওয়া
সম্ভাব্য ঘাটতি: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
চামড়া শুকিয়ে ফাটে। মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড, বাদাম ও অলিভ অয়েল খান।
১১. চুল পড়া বা পাতলা হওয়া
সম্ভাব্য ঘাটতি: আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন
রক্তে পুষ্টির ঘাটতিতে চুলের রুট দুর্বল হয়। ডিম, পালং শাক, চিয়া সিড খান।
১২. মুখে ঘন ঘন ঘা হওয়া
সম্ভাব্য ঘাটতি: বি-ভিটামিন ও আয়রন
কোষ পুনর্গঠনে সমস্যা হয়। দুধ, কলিজা ও মাছ খেতে পারেন।
১৩. মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
সম্ভাব্য ঘাটতি: ভিটামিন C
কোলাজেন উৎপাদনে ঘাটতি হলে এমন হয়। কমলা, পেয়ারা, টমেটো ও লেবু খান।
১৪. শুষ্ক ও খসখসে ত্বক
সম্ভাব্য ঘাটতি: ভিটামিন A ও ফ্যাটি অ্যাসিড
ত্বক ময়েশ্চার ধরে রাখতে পারে না। গাজর, মিষ্টি আলু ও মাছের তেল উপকারী।
১৫. পেশিতে টান ধরা বা ক্র্যাম্প
সম্ভাব্য ঘাটতি: ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম
ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্র্যাম্প হয়। কলা, দুধ, দই খান ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
১৬. রাতে ভালো দেখতে না পারা
সম্ভাব্য ঘাটতি: ভিটামিন A
রেটিনার কোষ দুর্বল হয়। গাজর, ডিমের কুসুম, মাছের তেল উপকারী।
১৭. পায়ে অস্থিরতা বা অদ্ভুত অনুভূতি (Restless Leg Syndrome)
সম্ভাব্য ঘাটতি: আয়রন
রক্তে আয়রনের ঘাটতিতে স্নায়ু উত্তেজনা বাড়ে। লিভার, পালং শাক, খেজুর ও ভিটামিন C যুক্ত খাবার খান।
পরামর্শ
১. কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
২. পর্যাপ্ত ঘুম, পানি ও সুষম খাদ্য শরীরের পুষ্টি ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩. প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস থেকে পুষ্টি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
Tags: buy Super food, Food booster, ভিটামিন, সুস্থ থাকতে টিপস, স্বাস্থ্য