সিরাজগঞ্জে র্যাব-১২ এর অভিযানে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকার জালনোটসহ রঞ্জু আহমেদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর র্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার সদানন্দপুর কড্ডার মোড়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক রঞ্জু আহমেদ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বড় হামকুড়িয়া গ্রামের মৃত আফের প্রামানিকের ছেলে।
র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রঞ্জুর কাছ থেকে ১ হাজার টাকার ২৯টি, ৫০০ টাকার ৩১টি ও ২০০ টাকার ২০টি—মোট ৮০টি জালনোট উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়াও জালনোট ব্যবসা থেকে উপার্জিত ৮ হাজার ৯৯০ টাকার ১০১টি আসল নোট এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আটক রঞ্জু আহমেদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
——————————
——————————
জাল টাকা চেনার উপায়
১. নিরাপত্তা সুতা (Security Thread)
* ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটে বাঁ পাশে প্রায় ৪ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা থাকে; ১০০০ টাকার নোটে প্রায় ৫ মিলিমিটার।
* সুতার একটি অংশ রাঙা (লাল) থেকে সবুজে রঙ পরিবর্তন হয়। আরেক অংশে টাকার মূল্য (টাকা মান) ছাপানো থাকে।
* নোট নাড়ালে বা আলোর নিচে ধরলে হলোগ্রাফিক (চকচকে) ইমেজ দেখা যেতে পারে।
২. লুকানো ছাপার অক্ষর (Hidden Printing)
* বঙ্গবন্ধুর বা অন্য প্রতিকৃতির নিচে, পেছনের অংশে মাঝের নকশার আড়ালে ১০০, ৫০০ বা ১০০০ সংখ্যাটি লুকিয়ে থাকে। নোট একটু কাত করলে সেসব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
* ২০০ টাকার নোটে ইংরেজিতে লেখা থাকে “TWO HUNDRED TAKA” সেই রকম অংশে।
৩. খুব সূক্ষ্ম ফন্ট
* নোটের পেছনের নিচের অংশে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা সূক্ষ্ম ফন্টে থাকে, নোটের মানের সংখ্যা (১০০, ৫০০, ১০০০)সহ।
* ২০০ টাকার নোটের বাঁ পাশের নকশার মাঝে ‘200’ লেখা থাকে, যা সাধারণ চোখে খুব মেপে দেখা যায় না; ক্যামেরা বা জুম করা ক্ষেত্রে ভালো বোঝা যায়।
৪. স্পর্শে অনুভব (Texture / Feel)
* আসল নোট একটু “খসখসে” অনুভব হয়। স্পর্শ করলে বুঝতে পারেন যে ছাপা বা পেইন্ট বেশ ঘন ও ভালোভাবে করা হয়েছে।
* নকল নোট সাধারণত বেশি মসৃণ হয়, খসখসে ভাবে অনুভব কম পাওয়া যায়।
৫. রঙের পরিবর্তন
* নোট এদিক-ওদিক করলে নির্দিষ্ট অংশের রং বদলায়: যেমন ১০০ ও ১০০০ টাকার নোটে কোণায় থাকা সংখ্যার রং সোনালি থেকে সবুজে পরিবর্তন হয়; ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ।
* নোটের পেছনের বাঁ দিকে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা নীলচে রঙে ধরা পড়ে এদিক-ওদিক করলে।
৬. চৌম্বকীয় কালি ও স্পার্ক বা আলো প্রতিফলন
* কিছু নোটে বিশেষ ধরনের কালি ব্যবহার করা হয় যা আলোর নিচে বা নেড়েচেড় করলে ঝলমল করে।
* বিশেষ করে ২০০ টাকার নোটে উপরের ডান কোনায় এমন একটি অংশ থাকে যা সোনালি থেকে সবুজ রঙে পরিবর্তন হয় এবং আলো দেওয়া হলে আলো প্রতিফলিত বা ঝলমল করার মতো অনুভব হয়।
Tags: জালনোট