সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। কমিটি ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় ৫০ জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন পদত্যাগী নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, আগের আহ্বায়ক কমিটিকে বিলুপ্ত না করেই কেন্দ্রীয় কমিটি গোপনভাবে ২০৪ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে, যা ‘অবৈধ’ এবং ‘একতরফা’। তাদের দাবি, নতুন কমিটির বিষয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক নীতি ও সাংগঠনিক চর্চার পরিপন্থি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘোষিত কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে একই কমিটিতে থাকা তাদের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ—এই কারণেই তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগী নেতারা দাবি করেন, ঘোষিত কমিটি বাতিল করে আলোচনা সাপেক্ষে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নতুন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইয়াসির আরাফাত ইশান, যুগ্ম আহ্বায়ক আসির ইন্তেসার অয়ন, টি এম মুশফিক সাদ, রাহাত তালুকদার, সাদমান জাহিন, আধাম আদৃত, সংগঠক যুবায়ের আল ইসলাম সেজান, সিনিয়র সহ-মুখপাত্র সাদিয়া আহমেদ সিনহা এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আঞ্জারুল ইসলাম।
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মুনতাছির মেহেদী হাসান পদত্যাগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পদত্যাগকারীর সংখ্যা ৫০ বলে দাবি করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৮ জন। তিনি কমিটি ঘোষণায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটিতে সৃষ্টি হওয়া এই সংকট কীভাবে সমাধান হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
Tags: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিরাজগঞ্জ