সিরাজগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে ৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর প্রার্থী শাব্বির আহমেদ তামিমও রয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও তিনি জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন জানাননি বলে সিরাজগঞ্জ ইনফো’কে ফোনে জানিয়েছেন।
গতকাল ২০ জানুয়ারি ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টি একই জোটে থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তে শাব্বির আহমেদ তামিম তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহিনুর আলমের সমর্থনে (এবি পার্টি) এর সাব্বির আহমেদ তামিম, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহা. আব্দুর রউফের সমর্থনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী এস.এম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শাব্বির আহমেদ তামিম। সিরাজগঞ্জ ইনফোকে ফোনে তিনি জানান, আমি দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছি, কোন দলের কোন প্রার্থিকে সমর্থন দিতে নয়। একটি দলের লোকজন এ ব্যাপারে ‘মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা’ ছড়াচ্ছে যে আমি জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছি।
শাব্বির আহমেদ তামিম আরও বলেন, আমি আশা করি আগামী নির্বাচনে কাজীপুরের ভোটাররা স্বাধীনতাবিরোধী কাউকে ভোট দিবে না।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসন থেকে এবি পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন শাব্বির আহমদ তামিম। তিনি কাজীপুরের কুড়ালিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং মেডিএইডার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ১২ বছর একটি বেসরকারি ব্যাংকে করপোরেট ব্যাংকিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি (অনার্স), প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এসসিবিএ সম্পন্ন করেছেন। সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে তিনি “ডোনেট ফর গুড” নামে একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে তিন কোটি টাকার খাদ্য বিতরণ ও ২০ হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তাঁর এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
প্রথমবার নির্বাচন করতে এসে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন।
Tags: নির্বাচন ২০২৬