সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। যারা আগাম শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করেছেন, তারা এখন পরিস্থিতি দেখে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়তে থাকলে ক্ষেত প্লাবিত হয়ে তাদের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হতে পারে।
গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.১৩ মিটার, যা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ১৫ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পানি বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ মিটার, যা বিপদসীমার মাত্র ১ মিটার নিচে।
শুধু পানি বৃদ্ধি নয়, ভাঙনের ভয়ও নতুন করে দেখা দিয়েছে। সদর, কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় প্রতিবছর বর্ষা শেষে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলায় কয়েকশ একর জমির শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়েছিল।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) আবদুল মতিন বলেন, “শীতকালীন সবজি চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগাম বাজারে ভালো দাম পাওয়ার জন্য অনেকেই এখন চাষ শুরু করেছেন। পানি যদি আরও বাড়ে, তবে কিছু ক্ষতি হতে পারে। আমরা কৃষকদের সতর্ক করছি যাতে তারা বিকল্প জমি প্রস্তুত রাখেন এবং প্রয়োজনে পরবর্তী ধাপে আবার চাষাবাদ শুরু করেন।”
Tags: শীতের সবজি, সিরাজগঞ্জে বন্যা